English Version

হাট-বাজারে হঠাৎ কমেছে ধানের দাম, হতাশ কৃষক!

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

জি এম মিঠন, নওগাঁ: নওগাঁর হাটবাজারগুলোতে হঠাৎ করেই কমতে শুরু করেছে ধানের দাম। ফলে প্রকৃত ধানচাষী কৃষকরা পড়েছেন বেকায়দায়। বাজারে ধান বিক্রি করতে এনে বিগত দিনের তুলনায় দাম কম শুনে হতাশ হয়েছেন কৃষকরা।

উত্তরাঞ্চলের শস্যভান্ডার বলে খ্যাত নওগাঁ জেলার ১১ উপজেলায় এবার আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। শুরুতে বাজারে ধানের দামও ছিল সর্বকালের সেরা, আর এজন্য কৃষক-কৃষাণীর মুখে ছিলো হাঁসি। কিন্তু হঠাৎ দাম কমে যাওয়ায় চাষীরা এখন তাদের খরচের সংকুলান নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছেন। অনেকে এটাকে সিন্ডিকেটের কারসাজী বলেও মনে করছেন।

২৭ নভেম্বর শুক্রবার সকালে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার সরস্বতীপুর ও নওগাঁর মান্দা উপজেলায় সতীহাটে ধানের সরবরাহ বাড়লেও তুলনামূলক ক্রেতা ছিল কম। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানেই বাজারে সব জাতের ধানের দাম মণ প্রতি ১০০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা কমেছে বলেই ধান বিক্রি করতে আসা কৃষকরা জানিয়েছেন।

গত সপ্তাহেও জেলার বিভিন্ন হাটে কাটারী জাতের চিকন ধান ১ হাজার ২শ’ থেকে ১ হাজার ২১০ টাকা প্রতি মণ দরে বিক্রি হয়েছে, আর স্বর্ণা-৫ জাতের ধান প্রতি মণ ১১শত ৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

কৃষকরা জানান, গত সপ্তাহে স্বর্ণা-৫ জাতের ধানের দাম ছিল ১ হাজার ১৫০ টাকা প্রতি মণ, আর গুটি স্বর্ণা ছিল এক হাজার ৫০ টাকা। শুক্রবার সেই স্বর্ণা-৫ ধানের দাম কমে হয়েছে এক হাজার থেকে এক হাজার ৫০ টাকা, আর গুটি স্বর্ণার দাম কমে হয়েছে এক হাজার টাকা। ধানের এই হঠাৎ দাম কমে যাওয়ায় কৃষকরা হতভম্ব হয়ে পড়েছেন।

মহাদেবপুর উপজেলার স্বরুপপুর গ্রামের ধানচাষী ও চেরাগপুর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য উজ্জল জানান, জেলায় বাম্পার ফলন হলেও আমাদের মাঠে এবার প্রতি বিঘা জমিতে ধানের ফলন খুবই খারাপ হয়েছে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, প্রতি বিঘা জমিতে মোটা জাতের ধান ৮ /৯ বা ১১ মণ পর্যন্ত ফলণ হয়েছে, যার ফলে কাটা মাড়াই খরচ করে আমরা এবার লোকসানের মুখে পড়ছি বলেও জানিয়েছেন তিনি।

অপরদিকে একই উপজেলার চৌমাশিয়া গ্রামের কৃষক সাজ্জাদ হোসেন মন্ডল জানান, গত বিগত হাটে প্রতি মণ স্বর্ণা ৫ ধান বিক্রি করেছি ১১ শত ২০ টাকায় অথচ সেই ধান পরের হাটে বৃহস্পতিবার প্রতিমণ ৮০ টাকা কমে বিক্রি করতে হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নওগাঁর উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো: সামসুল ওয়াদুদ জানান, চলতি আমন মওসুমে জেলায় এক লাখ ৯৭ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের চাষ করা হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির উপর নির্ভর করে আমন চাষাবাদ। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। ধানে পোকার আক্রমণ থাকলেও তেমন ক্ষতি হয়নি। ধান কাটা ও মাড়াই প্রায় শেষের দিকে। নওগাঁয় এবার ৫ লক্ষ ৮৪ হাজার ৯৪৫ মেট্রিক টন চাল উৎপাদিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অপরদিকে এলাকায় হালখাতার সময় বা দোকানীর বকেয়া পরিশোধ করার সময়। তাই বকেয়া পরিশোধের জন্য বাজারে ধানের আমদানি বেশি করছেন কৃষকরা। আমদানি বেশি হওয়ায় আগ্রহ কমেছে ক্রেতাদের। এ কারণে বাজারে ধানের দাম কমেছে বলে মনে করেন আড়ৎদাররা।

প্রতি মৌসুমের ন্যায়, চলতী মৌসুমেও পর্কৃত কৃষকরা অনেকেই বাঁকিতে সার সহ কিটনাশক ক্রয় করেছেন, আর সেই ক্রয়করা বকেয়া টাকা দোকানীকে পরিশোধ করতেই ধান কাটা মাড়াইয়ের শুরুতেই বিক্রির জন্য বাজারে তোলেন, আর এসুযোগকে কাজে লাগিয়ে চালকল মালিকরাও ধান কেনা কমিয়ে দেয় বলেই মৌসুমের এসময় পর্কৃত কৃষকরাই ক্ষতিগ্রস্থ বা লোকসানের মুখে পড়েন বলেই মনে করছেন সচেতন মহল। বিডিটুডেস/এএনবি/ ২৮ নভেম্বর, ২০২০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

twelve + 15 =