English Version

৭ই মার্চের ভাষণে অনুপ্রাণিত হয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ি: বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বার

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

হরিদাস রায়, ডোমার: মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলি জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়। জীবনের মায়াত্যাগ করে দেশের জন্য যুদ্ধ করতে পারাটা গৌরবের বিষয়। যুদ্ধের সময় আমাদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ ছিল না। আমাদের সকলের একটাই কথা ছিল পাক হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করা। সে সময় আমাদের মধ্যে যে দেশ প্রেম ছিল আজ তা নেই বললেই চলে। কথাগুলো বলছিলেন জেলার ডোমার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বার।

তিনি একজন রাজনীতিবীদ, সংগঠক, শ্রমিকনেতা ও সমাজ সেবক। ডোমার উপজেলার চিকনমাটি ধনীপাড়া গ্রামের মৃতঃ আব্দুল আজিজ সরকারের ৭ সন্তানের মধ্যে ৩য় তিনি। ১৯৭১ সালে যখন মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় তখন তিনি নীলফামারী সরকারী কলেজের বিএ ২য় বর্ষের ছাত্র ছিল। মুক্তিযুদ্ধের সময় নিয়ে তিনি কথা বলেছেন প্রতিনিধির সাথে।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে অনুপ্রানিত হয়ে মুক্তিযুদ্ধে যাবার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। প্রথমে বোড়াগাড়ী হয়ে গোমনাতি তারপর মশিউর রহমান যাদু মিয়ার বাড়ী হয়ে পরদিন ভারতের মিখলিগঞ্জ হয়ে দেওয়ানগঞ্জে যাই। সেখানে আমাদের সাথে ছিলেন, মানিক, মুক্তা, ধীরাজ, মিজান, জুলফিকার আলী আমরা সকলে একসাথে ভারতীয় বিএসএফের সাথে মুজিবক্যাম্পে যাই। সেখানে জি,এল ট্রেনিংয়ে অংশগ্রহণ করি। জিএল ট্রেনিং এর পর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুব আলম, পিন্টু, আহিদার সহ আমরা অনেকেই ৬নং সেক্টর কমান্ডার মেজর ছদর উদ্দিন ও ক্যাপ্টেন আবুল বাশারের নেতৃত্বে পঞ্চগড় জেলার ওমরখানা, জগদল, টোকাপাড়া এবং ঠাকুরগায়ের বিভিন্ন জায়গায় প্রত্যক্ষ যুদ্ধে অংশ নেই।

পাক হানাদার বাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে আমাদের দুইজন সহযোদ্ধা মালেক ও খালেক নিহত হয়। সেই দিন আমরা পাকবাহিনীর সাথে প্রতিরোধ গড়ে তুলে এগুতে থাকি সেই যুদ্ধে পাকবাহিনীর ১০ জন সদস্যকে হত্যা করে আমরা তাদের ব্যবহৃত সেনাবাহিনীর গাড়ী, মর্টারশেল এবং বিপুল পরিমাণ বোমা দখল করে নেই। তিনি যুদ্ধে সকল শহিদ মুক্তিযোদ্ধা ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা সহ যারা যুদ্ধে অংশ নিয়েছে তাদের কথা স্মরণ করে বলেন, তারা সকলেই জাতীর শ্রেষ্ঠ সন্তান।

মুক্তিযুদ্ধের কথা বলতে গিয়ে আবেগআল্পুত হয়ে পড়েন তিনি। জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার যে ডাক দিয়ে ছিলেন, তার ৭ই মার্চের ভাষণে উদ্বিপ্ত হয়ে জীবনের মায়া ত্যাগ করে এদেশের মানুষ যুদ্ধে ঝাপিয়ে পরে। তিনি আরো বলেন, যুদ্ধের সময় মাহবুব আলম ও অহিদার রহমান তাকে অনেক দিক নির্দেশনা দিয়েছিল। আব্দূল জব্বার বলেন, যুদ্ধের প্রথম ওমরখানা অপারেশনে আমিসহ সাতজন মুক্তিযোদ্ধা সেখানে আক্রমন করি এবং সফল হই। ২য় দিন আমি, মাহবুব আলম, পিন্টুসহ ৭জন মুক্তিযোদ্ধা পুনরায় অপারেশন করি সেখানেও আমরা সফল হই।

পাক বাহিনী আমাদের কাছে পরাভুত হয়। ঢোকপাড়া ক্যাম্পে হঠাৎ করে পাক বাহিনীর আক্রমনে আমাদের সহযোদ্ধা গোলাম গাউস নিহত হন। মেজর দর্জির ওমরখানা ব্যাংকার আক্রমনের নির্দেশে যুদ্ধে নিহত হন মতিউর আহত হয় জহুরুল। যুদ্ধের অবসর সময়ে মাহবুব আলম, অহিদার, গোলাম গউস, আর পিন্টুকে সাথে নিয়ে চলে যেতাম জহুরী বাজারে। জহুরী-চাউলহাটি-জলপাইগুড়ি পাকা সড়কের ধারে একটা ছোট বাজার। রাস্তার দুধারে কয়েকটা মনিহারী দোকান আর দুটো চায়ের ষ্টল ছিল। সেখানে অনেকেই আমাদের কাছে জানতে চাইতো আমরা যুদ্ধে জীততে পারবো কিনা। আমরা কোনো উত্তর দিতামনা।

তিনি আরো বলেন, যুদ্ধের কথা মনে হলে এখনও মনে শিহরণ জাগে। তিনি বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধাদি দেওয়ার জন্য। তিনি বলেন, মৃত্যু নিশ্চিত জেনে আমরা যুদ্ধে গেছি আর অনেকেই যুদ্ধে অংশ না নিয়ে কিভাবে মুক্তিযোদ্ধা বনে যান। তিনি আরো বলেন, সরকার সারা বাংলাদেশে রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করবে এঁটা ভালো উদ্যোগ। বিডিটুডেস/এএনবি/ ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

17 − four =